শ্রীপুরে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরে টাকা লুটের ঘটনায় মামলা

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশ-এর ডিস্ট্রিবিউটরের প্রাইভেটকার আটকিয়ে তিন কোটি টাকা লুট এবং গুলি করে তিন কর্মীকে আহত করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান মামুন বাদী হয়ে মামলা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

বিকাশের ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুর লিমিটেড স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রাইভেটকারে শ্রীপুর ও ভালুকার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। প্রাইভেটকারটিতে চারটি বস্তায় মোট ৪ কোটি টাকা ছিল। পথে গোসিংগা-শ্রীপুর সড়কের কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এরপর সন্ত্রাসীরা গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে কর্মীদের পিটিয়ে ও চাইনিজ কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে প্রাইভেটকারের পেছনের বক্সে থাকা চার বস্তা টাকার মধ্যে তিন বস্তা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। 

গুলিবিদ্ধ হিমেল আহমেদ (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ জসিমের ছেলে। তিনি শ্রীপুর এরিয়ার হিসাব বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। আহত দুই সহকর্মী লোন শাখার ক্রেডিট ম্যানেজার ফাহাদ হোসেন (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার বুলবুল আহমেদ, শ্রীপুর-মাওনা এরয়ার সুপারভাইজার বেড়াইদেরচালা (এসকিউ সোয়েটার কারখানা সংলগ্ন) মোহাম্মদ জামানের ছেলে রিফাত (৩০) এবং প্রাইভেটকার চালক কেওয়া পশ্চিম খন্ড এলাকার মৃত ফালু মিয়ার ছেলে লাল মিয়া (৩২)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ হিমেল আহমেদকে শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার বা আটক হয়নি। লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্তে শ্রীপুর থানা পুলিশ, গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং স্পেশাল রেন্সপন্স ব্যাটালিয়নসহ (এসআরবি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিটের টিমি কাজ করছে।