শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে ১০ প্লাটুন আনসার মোতায়েন

শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে ছয় প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জে চার প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আনসার বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

মহাপরিচালক জানান, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন আগাম তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য যাচাই করে নিজস্ব স্ট্রাইকিং ফোর্সের মাধ্যমে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দ্রুত শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে নাশকতা চালিয়ে জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে আনসার বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

এদিকে আনসার সদস্যদের কল্যাণে একাডেমির সংস্কার ও সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন এবং সদস্যদের আবাসনের জন্য নির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথাও ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, রেশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন মহাপরিচালক। ৬০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জনের মধ্যে অংশ নেন ৬৫৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম হন কুমিল্লার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালীর মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ির মো. সাবিকুর রহমান। পরে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহাপরিচালক।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহাপরিচালক বলেন, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আসা প্রশিক্ষক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।