’আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন, শ্রমিকের কতটাকা বেতন দিতে হয় দিবো'

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বছরে লাখ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় ব্যবসায়ীদের। এসব অর্থ ব্যয় করতে না হলে শ্রমিকদের মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনারা আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন শ্রমিকের কতটাকা বেতন দিতে হয় তা আমরা দিবো।’

তিনি বলেন, ‘যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা তো আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।’

নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটা আমাদের বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই দেশের সমস্যার সমাধান আমাদেরই করতে হবে।’

সাম্প্রতিক তিন দিনের ঘটনাপ্রবাহকে নিজের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, একটি মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রয়োজন ছিল না। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো মালিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং মালিক বা শ্রমিক—কোনো পক্ষেরই এ বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বিবেচনা ও মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব মজুরি বোর্ডের। এ জন্য বোর্ডকে কাজ করার মতো সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এগোনোর আগেই প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পেছনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন রয়েছে বলেও তাদের কাছে তথ্য এসেছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে শ্রমিক, মালিক ও সামগ্রিক শিল্প খাতের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হতো।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত