সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত

উপার্জনের তাগিদে এক বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন তারা। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে অবৈধ পথেই পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রতিবেশী দেশ ভারতে। সেখানে সুদূর তামিলনাড়ু রাজ্যে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন রাজমিস্ত্রি হিসেবে। কিন্তু নিজের ভিটায় ফেরার আকুলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনে ডেকে আনলো এক ভয়ানক অধ্যায়। 

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্তসংলগ্ন কালিন্দী নদী পার হয়ে দেশে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক।

গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তি হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪২) এবং একই গ্রামের মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মহিউদ্দিন ও শাহীন কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যান। প্রথমে কলকাতায় পৌঁছালেও পরে কাজের সুবাদে তারা চলে যান তামিলনাড়ুতে। সেখানে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন তারা। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বুধবার রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে বসন্তপুর সীমান্ত দিয়ে পুনরায় অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন তারা।

একপর্যায়ে বসন্তপুর সীমান্তসংলগ্ন বাঁশঝাড়িয়া এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে যখন তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ওপার থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। বিএসএফের ছোঁড়া বুলেট এসে বিঁধলে নদী মাঝেই গুরুতর আহত হন দুজন। পরে তাদের আর্তনাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভোরের দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে যে আহত ব্যক্তিরা কাজের জন্য অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথেই বিএসএফ তাদের ওপর গুলি চালায়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।