ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে এসব মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এতে করে মানবিক সংকটে পড়ছেন ওইসব মানুষ এবং সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজিবি সদস্যরা হ্যান্ডমাইকযোগে সীমান্ত এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কেউ যেন অবস্থান না নেয়, সে বিষয়ে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির কাজে সহযোগিতা করছেন।”
অপরদিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, “বিজিবি দিন-রাত সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।”
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা স্বেচ্ছায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পাহারা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।