ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টার প্রতিবাদ এবং তা প্রতিরোধের দাবীতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও কার্পাসডাঙ্গায় সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর এবং দামুড়হুদা উপজেলা শাখা।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পিচমোড় এলাকায় আয়োজিত এ সমাবেশে সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের তারবিয়াত সম্পাদক জিয়াউল হক এবং শাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের মাধ্যমে ভারতের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের লঙ্ঘন করছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইন উভয়েরই পরিপন্থী। নো-ম্যানস ল্যান্ডে মানুষকে আটকে রাখা মানবিক সংকট সৃষ্টি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের অন্যায় ও অমানবিক কর্মকাণ্ড কখনো মেনে নেবে না। ভারতের এ ধরনের আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবিকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার অঙ্গীকার করছি।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি পরিচালনা করেন মাহফুজুর রহমান।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গোরস্থান সড়কে এদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমীর নায়েব আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী আবেদ উদ দৌলা টিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত একটি অভিন্ন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান।
বক্তারা বলেন, আল্লাহ মানুষকে তার ইচ্ছায় বিভিন্ন দেশে জন্মদেন। এ কারনে জন্মসূত্রে প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন দেশের বাসিন্দা। ভারতে জন্মসূত্রের মুসলিম বাসিন্দাদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালানো হচ্ছে যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বিজেবি দল সরকার গঠনের পর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বিএসএফ সেখানকার বসবাসরত মুসলিমদের জোর করে তাদের পরিবার-পরিজনসহ আমাদের দেশে ঠেলা দেয়ার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাতের আধারে পুরুষ-নারী ও শিশুদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে বিএসএফ, যা কাম্য নয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু হানিফা, নাটুদহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর শামসুজ্জোহা, নাটুদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ওমর ফারুক ও কুড়ুলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান কাবিল।