ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন বরাদ্দ, গেজেটভুক্তকরণ ও সরকারি ভাতা চালুসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঝিনাইদহ জেলা ইউনিট কমান্ড।
এদিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সচেতন করতে জেলা জুড়ে বিশেষ সতর্কীকরণ লিফলেট বিতরণ শুরু করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বশীল নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায় করছে| এ কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করতে জেলা জুড়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস, ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় কিংবা নাম বাতিলের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে তার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। কোনো মুক্তিযোদ্ধা এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে বা কেউ অর্থ দাবি করলে দ্রুত জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে সরাসরি কিংবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর আহবান করছি।
প্রচারিত লিফলেট সূত্রে জানাযায়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের কখনো জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর সদস্য, আবার কখনো জেলা বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পরিচয় দিচ্ছে| তারা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার দাবি করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তকরণ, বন্ধ ভাতা পুনরায় চালু কিংবা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে।
এছাড়া চক্রটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাতিল হয়ে গেছে’ অথবা ‘আদালতের মাধ্যমে জামুকার সদস্যপদ ফিরে পাওয়া গেছে’ এ ধরনের ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভেদ ও সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, সরকারি কোনো সেবা গ্রহণের জন্য অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই| লিফলেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এবং জেলা ও উপজেলা কমান্ডের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা কথিত মুক্তিযোদ্ধার সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
তিনি আরও বলেন, “সকল মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের যেকোনো দাপ্তরিক কাজের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লাগে না। এসব সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।”