ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই কন্যাদের মা অভিযোগ করেছেন, গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে সন্তান জন্মের পর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে আইনিভাবে তালাক দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মহেশপুর উপজেলার পুরাতন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রীনা খাতুনের। বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের সংসার চলছিল। কিছুদিন পর রীনা গর্ভবতী হলে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রীনা যমজ কন্যাসন্তান মেহেরীন ও নওরীনের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি। বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) মহেশপুর থানায় উপস্থিত হয়ে রীনা খাতুন বলেন, সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে, তা মানুষের হাতে নয়। শুধু কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে আমাকে এবং আমার সন্তানদের প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমি কোনো অপরাধ করিনি।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে নির্যাতন অসহনীয় হয়ে উঠলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে গত ২৫ এপ্রিল ডাকযোগে তালাকনামা পাঠানো হয়।
এদিকে যমজ শিশুদের নানি হালিমা খাতুন বলেন, দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে আমরা চরম অসহায় অবস্থায় আছি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।