ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ

‘ঝিনাইদহের সার্বিক উন্নয়নে সব করবো, তবে মেডিকেল কলেজ নয়’ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মেডিকেল কলেজ জেলা শহরের পরিবর্তে শৈলকুপা শহরে হচ্ছে এমন আশংকা করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
 
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে শহরের পায়রা চত্বরে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
 
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, ডা. কামাল হোসেন, ডা. মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সবুর মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় এমপি আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ঝিনাইদহে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও জনমত গড়ে তুলছে। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শৈলকুপা উপজেলায় স্থান নির্বাচন করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে জেলার কেন্দ্রস্থল ও অধিকাংশ মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঝিনাইদহ সদরেই মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তরা বলেন, জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলে জেলার সব উপজেলার মানুষ সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। অন্যদিকে জেলা সদর থেকে দূরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও নানা ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে জনস্বার্থ ও জনগণের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝিনাইদহ সদরেই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে দাবী জানানো হয়। অন্যথায় দাবি আদায়ে জেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুসিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।
 
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে ঝিনাইদহ সদরেই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোর দাবি জানান।