ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য জাতীয় বাজেটে কর্মসংস্থান, রেশন, পেনশন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে ঝিনাইদহে গ্রামীণ মজুর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে হাওড়-বাঁওড়, বিল ও খাস জলাশয়ের ইজারা প্রথা বাতিল করে জেলে, মজুর ও ভূমিহীনদের সামাজিক মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বাজারে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ৭ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়ন কমিটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক বলেন, বর্তমান বাজেটে গ্রামীণ মজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই। তিনি সারা বছর কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, ষাটোর্ধ্ব মজুরদের মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন, পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালু, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজেটে ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ মজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন উদ্যোগ নেই। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের জন্য সরকারি খরচে আবাসন নির্মাণ এবং ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির ভিত্তিতে জলমহালের ইজারা বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, আবু তোয়াব অপু, তোফাজ্জেল হোসেন লস্কর ও আবু বকর সিদ্দিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।