ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন খামারি ও কৃষকরা। চুরি ঠেকাতে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গ্রামবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
জানাগেছে, গত ১০ দিনে উপজেলার তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনাও বেড়েছে। এ অবস্থায় পুলিশের নিয়মিত টহলের অভাবের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। একই রাতে পার্শ্ববর্তী বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রাম থেকেও একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
এর আগে ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। ১৫ জুন একই গ্রামের কৃষক নায়েব আলীর চার লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। ওই রাতেই একই গ্রামের আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত আলমসাধু গাড়িও চুরি হয়।
এর মধ্যে গত ২৫ জুন রাতে ভাদঘারা গ্রামের বাসিন্দারা গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। তবে গরু চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আলামত না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আটক তিনজনের বাড়ি পাশের বনখিদ্দা গ্রামে। তারা দাবি করেন, রাতে ডাবক্ষেতে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ভাদঘারা এলাকায় এসেছিলেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘গরু চুরির বিষয়ে কেউ আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে লোকমুখে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ক্যাম্পগুলোকে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গরু চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর হাতে আটক তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গরু চুরির কোনো আলামত না পাওয়ায় ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশি টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’