সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাল থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খালে এই বিশেষ উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সারাদেশব্যাপী আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অভিযান চলছে। এটি শুধু এক বা দুই দিনের কোনো সাময়িক বিষয় নয়, একে আমাদের নিয়মিত জীবনচর্চার অংশ বানিয়ে নিতে হবে। কতিপয় ঘের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে যে, তারা চিংড়ি চাষের জন্য খালের স্বাভাবিক গতিপথ আটকে লাখো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন তীব্র বর্ষাকাল। আমি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাবো আপনারা অনতিবিলম্বে নিজ দায়িত্বে ঘেরের ও খালের সব অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা খুলে দেবেন। আজকে আমরা এখানে উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করছি। এরপরেও যদি খালের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টির কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় তবে প্রশাসন চরম কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং আইনগতভাবে যা যা করার প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।
অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মইনুল ইসলাম মঈন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা পৌরসভা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা পৌরসভা লিয়াকত আলী, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরার সভাপতি তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামানের, বিশিষ্ট সমাজসেবক
ডা. আবুল কালাম বাবলা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর সাতক্ষীরা পৌরসভা মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
সরকারি এই উদ্যোগে প্রশাসনের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন সাতক্ষীরা, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা এবং সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা খালের ময়লা-আবর্জনা ও নেট-পাটা অপসারণে সরাসরি অংশ নেন।
সাতক্ষীরার সাধারণ জনগণ প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এই উচ্ছেদ অভিযান যেন নিয়মিত ব্যপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী রূপ পায়, সেই দাবি জানিয়েছেন।