যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এক নারী ও তার ছয় বছরের ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির হাত-পা বাঁধা এবং মায়ের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুবায়দা খাতুন ওই গ্রামের প্রবাসফেরত জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাদের একমাত্র সন্তান জিসান স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর মা ও ছেলের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। উদ্ধারের সময় জিসানের হাত-পা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। অন্যদিকে জুবায়দার গলায় ওড়না পেঁচানো এবং ওড়নার দুই প্রান্ত তার নিজের দুই হাতে ধরা অবস্থায় ছিল।
জুবায়দার ছোট বোন পিনজিরা খাতুন জানান, তার বোনজামাই জাকির হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। তার দাবি, জায়গা-জমি নিয়ে জাকিরের সঙ্গে তার ভাই শিহাবের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
বাঘারপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, ঘটনাস্থলের আলামত এবং মরদেহের অবস্থা বিবেচনায় বিষয়টি প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ইতোমধ্যে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিহতের স্বামীসহ পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর জাকির হোসেন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন। এদিকে মা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে খলশী গ্রামে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।