ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই শিশুর বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে লুৎফর রহমানের লাঠির আঘাতে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের বয়সের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার যাদবপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাদবপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন রবিউল ইসলাম ও তার ভাগ্নিজামাই লুৎফর রহমান। তাদের পরিবারের দুই শিশু জিহাদ ও সোহান প্রায়ই একসঙ্গে খেলাধুলা করত।
শনিবারও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে তারা মাঠে ফুটবল খেলছিল। একপর্যায়ে জিহাদ ও সোহানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। পরে দুই শিশু বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় লুৎফর রহমান তার মামাশ্বশুর রবিউল ইসলামকে লাঠি দিয়ে পিঠে আঘাত করেন। এতে রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত যাদবপুর ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই শিশুর মধ্যে মারামারির জেরে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় লুৎফর রহমানের লাঠির আঘাতে রবিউল ইসলাম অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর রহমান পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায়ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।