কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থানীয় কবরস্থান থেকে আলোচিত দরবারপ্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ তুলে নিয়ে তার নিজস্ব দরবার শরিফের আঙিনায় পুনরায় দাফনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার অনুসারীদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো একসময় কবরটি খুঁড়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দরবার শরিফের প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে সেখানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে কবরস্থানে গিয়ে তারা মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখতে পান। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, মরদেহ সরানোর ঘটনায় তাদের পরিবারের কেউ জড়িত নন।

খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কবর স্থানান্তরের আলামত পাওয়া গেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ কিছু অবশেষও দেখা গেছে। তবে এগুলো শামীমের মরদেহের অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, দরবার চত্বরে একটি কবরের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল পাওয়া গেছে। সেটি শামীমের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হলে সেটি আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেদিনই হামলার মধ্যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় শামীমের ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত