ফৌজদারি মামলায় আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের সাময়িক বরখাস্তের অবসান ঘটিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর পুনর্বহালের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া সি. আর. ২৯৮/২০১৮ নম্বর ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকায় ২০২৩ সালের ৬ জুলাই ড. মাহবুবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে গত ১১ আগস্ট যশোরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় তাঁকে পূর্ণাঙ্গ অব্যাহতি দেন। আদালতের এই আদেশের পর ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯ বিধি অনুযায়ী তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পুনর্বহালের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এর অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর চাকরিতে ফেরার ঘটনায় কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর ক্যাম্পাসে ফেরার সময়সূচি ও দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালে একটি মামলার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁর পক্ষের দাবি, মামলাটি ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক এবং ওই সময় তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।