উপকূলে ভেসে এলো ৩২ ফুটের মৃত তিমি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বরগুনার তালতলী উপকূলে ভেসে এসেছে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত বেলিন তিমি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে আন্দারমানিক নদীর তীরে স্থানীয়রা তিমিটিকে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে তিমিটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সাধারণ সম্পাদক মো. আরাফাত রহমান বলেন, বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের লাগোয়া আন্দারমানিক নদীতে তিমিটি ভেসে এসেছে। দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। পচনের কারণে তিমিটির দেহ উল্টে গেছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ ফুট।

পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, সকালে স্থানীয় লোকজন তিমিটিকে উপকূলীয় মোহনায় দেখতে পান। বেলা ১১টার দিকে এটি আবার গভীর সমুদ্রের দিকে ভেসে যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে বন বিভাগের কর্মীরা তিমিটির মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, কলাপাড়ার সঙ্গে তালতলীর সীমান্তবর্তী আন্দারমানিক নদীর দিকে মৃত তিমিটি ভেসে যাচ্ছিল। সেটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। মাটিচাপা দেওয়ার আগে তিমিটির প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংরক্ষণ করা হবে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মো. রাজীব সরকার তিমিটির ছবি দেখে বলেন, এটি একটি বেলিন তিমি (Baleen whale) বলে মনে হচ্ছে। বেলিন তিমির মুখে দাঁতের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের বেলিন প্লেট থাকে। এসব প্লেটের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে ছোট মাছ, ক্রিলসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করে।

অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের বড় আকৃতির তিমির উপস্থিতি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ছবি দেখে তিমিটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য তিমিটির দেহ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নমুনা বিশ্লেষণ করা দরকার।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তিমিটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। এরপর সেটিকে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন