দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট-ফসলি জমি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। অনেক এলাকায় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এখন নৌকা।

বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দুর্গত মানুষ যাতে আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উজানের পানি ও বৃষ্টির পানি একসঙ্গে নেমে আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৯২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে দৌলতপুরের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। যেসব বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে, সেসব পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে তুলনামূলক নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষের চলাচলের প্রধান অবলম্বন এখন ডিঙি ও ছোট নৌকা। বেশ কিছু বাড়িঘর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে এবং অধিকাংশ বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রায় সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো ইউনিয়নের মানুষ অনেকটা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী এক দিনের মধ্যে আরও অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরও জানান, গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে থাকা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।