বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দভ্রমণে গিয়ে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আকাতের ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাকিবুজ্জামান রকি শৈলকুপা পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের মৃত হাসানুজ্জামানের ছেলে। তিনি শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শৈলকুপার কাতলাগড়ী ঘাট থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হযরত সোলাইমান শাহ (র.) এর মাজার জিয়ারত ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দিনভর ভ্রমণ শেষে রাতে নদীপথে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পদ্মার প্রবল স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন যাত্রী, রাকিবুজ্জামান রকি, লিটন কুমার দাস ও আব্দুল ওহাব নদীতে পড়ে যান। পরে লিটন ও আব্দুল ওহাবকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিলেন রকি।
দুর্ঘটনার পর রকিকে উদ্ধারে ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ অভিযান শুরু করে। তবে রাতের অন্ধকার ও পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পেরিয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত নদীতে উদ্ধার অভিযান ও মরদেহের সন্ধান চলতে থাকে। পরে রোববার সকালে ঈশ্বরদীর আকাতের ঘাট এলাকায় রকির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে যান।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, সকালে স্বজনেরা মরদেহের সন্ধান পেয়ে ঈশ্বরদীতে গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ শৈলকুপার কবিরপুর গ্রামে নেওয়া হবে। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হবে।
রকির মৃত্যুর খবর শৈলকুপায় পৌঁছালে সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এক ফেসবুক পোস্টে আইনমন্ত্রী বলেন, রাকিবুজ্জামানের মতো উদীয়মান নেতার মৃত্যুতে দল একজন পরীক্ষিত কর্মীকে হারিয়েছে। তার মৃত্যু দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।