কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্ধারিত দিনে সার না পাওয়ায় এক ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিলার পয়েন্টে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করেন। তবে এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কৃষকেরা জানান, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে এবং ওই দিন আর সার দেওয়া হবে না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সেখানে থাকা কৃষকেরা। পরে আরও কৃষক সেখানে জড়ো হয়ে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে দেখেন, সেখানে প্রায় ৬০ বস্তা সার রয়েছে।

পরে খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিলের উপস্থিতিতে গোডাউনে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ শুরু করা হয়।

আরাফাত জামিল বলেন, ডিলার পয়েন্টে যে পরিমাণ সার পাওয়া গেছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার বিতরণের রেজিস্টারও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, সেখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিলার শহিদুল ইসলামের জন্য ৬৪ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে তিনি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ৫৮ টন সার উত্তোলন করেন। ওই পরিমাণ সারে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা হওয়ার কথা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টের সার বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ কৃষকের ফোন নম্বর উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় থাকা নয়জন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একজন সার পাওয়ার কথা জানান। অন্য আটজনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি উত্তোলন করা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এ সংক্রান্ত রেজিস্টারও রয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম সার বরাদ্দ পেলে তার করার কিছু নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে চলতি আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকেরা সার নিতে গিয়ে ডিলারের কাছ থেকে সার না পেয়ে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

তবে জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা বরাদ্দও উত্তোলন করছেন। কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না; অথচ বেশি দামে খোলা বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে।

কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিলার শহিদুল ইসলামের ৬৪ টন চাহিদার বিপরীতে ৫৮ টন সার উত্তোলনের তথ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের বাফার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দুই জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে এ চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও সার পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।

এম.সি.এইচ
আরও পড়ুন