রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বাগেরহাটের মোংলার কানাইনগর এলাকায় পশুর নদীর তীরে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ ক্যাম্পেইনের উপকূলীয় অভিযাত্রা উপলক্ষে পদযাত্রা, মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মোহনা থেকে পদযাত্রা শুরু করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি। পদযাত্রার তৃতীয় দিনে বুধবার বিকেলে তিনি মোংলায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানিয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের উদ্যোগে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
পদযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের মো. নূর আলম শেখ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’-এর উদ্যোক্তা মাসফিকুল হাসান টনি, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ধরা নেতা নাজমুল হক ও জানে আলম বাবু, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের মো. সোহেল, মোহাম্মদ শাহীন খলিফা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র ডলার মোল্লা ও মেহেদী হাসান এবং বিডি ক্লিনের আবু হাসানসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, উপকূলের চারদিকে পানি থাকলেও অনেক এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। তাই সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘Renewables Now’ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে উপকূলীয় এলাকায় পদযাত্রা শুরু করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি। জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ প্রায় ১৯ দিন চলার কথা রয়েছে। শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মোহনা থেকে শুরু হওয়া এ পদযাত্রা কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ প্রচারাভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে আয়োজকেরা জানান।
মাসফিকুল হাসান টনি ১৪ সেপ্টেম্বর শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মোহনা থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। পরে কয়রার বেদকাশি, কালিঞ্চি, টেংরাখালী, মরাগাং, সুন্দরবন বাজার, হরিনগর, কুলতলী, মুন্সিগঞ্জ, কলবাড়ি ও নীলডুমুরিয়া হয়ে বেদকাশি ঘাটে পৌঁছান। পথে তিনি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, নিরাপদ পানির সংকট, মাছের ঘের, বন ও জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং জলবায়ু ঝুঁকির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পদযাত্রাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরাপদ পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। কোথাও সৌর প্যানেল ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও অনেক এলাকায় তীব্র পানির সংকটের চিত্র পাওয়া গেছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়রা, নলিয়ান, দাকোপ ও বানিশান্তা হয়ে বুধবার বিকেলে মোংলায় পৌঁছান মাসফিকুল হাসান টনি। সেখানে বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি-মাওয়ালি ও পরিবেশকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।