অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংস্থার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশন (সিও)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংস্থার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিওর পরিচালক (সার্বিক) ড. মেহেদী হাসান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সিওর চাঁদপুর শাখার সাবেক সহকারী শাখা হিসাবরক্ষক মো. সেলিম রেজার (স্টাফ আইডি-৪৬১৪) বিরুদ্ধে সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে উদঘাটনের পর সেলিম রেজা নিজের দায় স্বীকার করে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সেলিম রেজার একটি ভিডিও বক্তব্যও সংস্থার কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ড. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংস্থার জোনাল কর্মকর্তারা সেলিম রেজার গ্রামের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহে যান। পরে তাঁর বাবা, চাচাসহ পরিবারের চার সদস্য চাঁদপুর শাখা কার্যালয়ে এসে সংস্থার হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। সংস্থার দাবি, ওই পর্যালোচনার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন।
তিনি আরও বলেন, আত্মসাৎ করা অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেলিম রেজার বাবা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও বক্তব্যও সংস্থার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অঙ্গীকারনামা ও বক্তব্যের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর যশোর প্রেসক্লাবে সেলিম রেজা ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে সিওর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
ড. মেহেদী হাসান বলেন, লিখিত অঙ্গীকারনামা, অডিও-ভিডিও বক্তব্য এবং হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনার নথি থাকার পরও বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত তথ্য ও প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প, অডিও-ভিডিও বক্তব্য ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।