রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ

খুলনায় রাতের বেলা পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা পরিলক্ষিত হওয়ায় সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযান কিংবা অন্যান্য দায়িত্ব পালনকালে রাতে কোনোভাবেই যেন সদস্যরা একা চলাচল না করেন, তা নিশ্চিত করতে ইউনিট প্রধানদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের অনুলিপি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ, অপরাধ ও অপস, ডিএসবি ও ট্রাফিক), সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ লাইন্স, রিজার্ভ অফিস এবং কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও থানায় পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী সড়কের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ধারালো চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন ৪৩ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। ছিনতাইকারীদের হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, খুলনায় অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের ঘাঁটি চিহ্নিত করে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের মনোবল ভাঙতে পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর এ হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের হামলার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভীতি তৈরি হতে পারে। এজন্য বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চলাচলের জন্য অবগত করা হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। আমরা অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি।