উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি শেরপুর সদর হাসপাতালের আইসিইউ

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও জনবল সংকটসহ নানা কারণে এখনো চালু করা যাচ্ছে না চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ফলে গুরুতর ও মুমূর্ষু রোগীদের প্রয়োজনীয় আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে এবং চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর হতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ আইসিইউ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে জনবল সংকট ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময়েও আইসিইউ সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৪ জুন সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইসিইউ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই দিন বিকেল ৩টায় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালের নবম তলায় ফিতা কেটে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
 
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া), মেডিকেল অফিসার, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, আইসিইউ টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ড বয় ও সুইপারসহ প্রায় ৭৭টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে, রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, আইসিইউ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা। কিন্তু শেরপুরে আইসিইউ চালু না থাকায় গুরুতর ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ বা ঢাকাসহ দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি আর্থিকভাবেও পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগও আশ্বাস দিয়েছে যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইসিইউ সেবা চালু করা হবে এবং শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।