রোগীর খাবারে মাংস কম, ওজনযন্ত্রে মেপে দেখলেন এমপি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

হাসপাতালের রান্নাঘরে সরাসরি ঢুকে পড়লেন এমপি। ওজন করালেন ব্রয়লার মুরগির মাংস। এক টুকরো পাওয়া গেল চল্লিশ গ্রাম, আরও পাঁচ টুকরো ওজন করে পাওয়া গেল ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম। অথচ দুপুরের খাবারে প্রত্যেক রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংস সরবরাহ করার কথা।

দিনে দুপুরে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে হাতে নাতে এমন অনিয়ম ধরলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম। স্বচক্ষে এমন অনিয়ম দেখার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি বলেন, শুধু রোগীদের মাংস নয়, ডাল-সবজিসহ প্রায় সকল পথ্যের ক্ষেত্রে একই অবস্থা। 

তিনি জানান, সরকারের বরাদ্দ আছে- কিন্তু এখানে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। বার বার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে রোগীদের দৈনিক খাবারের রুটিন দেখতে চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। তাৎক্ষণিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহকে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। 

তিনি বলেন- আজ রাত থেকে যেন রুটিন ও সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আড়াইশ রোগীর জন্য খাবার বরাদ্দ রাখা হলেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় চারশ রোগীকে খাবার সরবরাহ করতে হয়। আড়াইশ রোগীর খাবার চারশ রোগীকে সরবরাহ করা হলেও ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আজ রাত থেকে খাবারের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে হাসাপাতাল চত্বর পরিদর্শনে গিয়ে যত্রতত্র মেডিকেল বর্জ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে বারোটা পার হলেও হাসপাতাল চত্বর থেকে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি। তাৎক্ষণিক মোবাইলে পৌরকর্তৃপক্ষকে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য আব্দুল করিম।

এসময় রোগীদের অনেকে এমপির কাছে অভিযোগ করেন, রাতের বেলা চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল চুরি হয়। এমনকি চিকিৎসকের মোবাইল চুরি হলেও তা উদ্ধার হয়নি। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা অকার্যকর।

সম্প্রতি কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ আসে এমপির কাছে। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করা হয়। যাদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের অনেককে হাসপাতালে অনুপস্থিত পান সংসদ সদস্য আব্দুল করিম।

রোববার বেলা ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। তিনি দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থানকালে বিভিন্ন অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালের নবনির্মিত ৯ তলা ভবন সচল করা যাচ্ছে না। এনিয়ে এমপি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিকবার সংসদে কথা বলেছেন। আবারও তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন।
MCH/AHA
আরও পড়ুন