১০ বছর ধরে শেকলবন্দি তাজউদ্দীন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় এক দশক ধরে শেকলে বাঁধা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তাজউদ্দীন আহমদ (৩০) নামের এক যুবক। 

পরিবারের সদস্যরা জানায়, অসুস্থতার পর তিনি কখনো আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারেনএমন আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই তাকে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘ সাত বছর চিকিৎসা করানোর পর অর্থসংকটে গত তিন বছর ধরে তার চিকিৎসাও বন্ধ রয়েছে।

তাজউদ্দীনের বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের ধানশিরা গ্রামে। নূর আহমদের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। একসময় দরিদ্র পরিবারের প্রধান ভরসা ছিলেন তাজউদ্দীন। শ্রমের আয় দিয়ে বাবা-মায়ের সংসারে সহায়তা করতেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে হঠাৎ তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

তাজউদ্দীনের বাবা নূর আহমদ এখন ঠেলাগাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি শাক-সবজি বিক্রি করেন। সেই সামান্য আয়েই কোনোরকমে চলে সংসার। বাবাকে সহযোগিতা করতে তাজউদ্দীনের বোন হালিমা খাতুন সম্প্রতি ছোট একটি দোকান দিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ভাইয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

হালিমা খাতুন বলেন, ১০ বছর ধরে তার ভাই অসুস্থ। প্রথম সাত বছর বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করালেও গত তিন বছর ধরে অর্থের অভাবে সেটিও বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভাইকে এভাবে শেকলে বন্দী অবস্থায় দেখতে তার কষ্ট হয়। সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আবারও ভাইয়ের চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।

তাজউদ্দীনের মা সকিনা বেগম জানান, একসময় ছেলের উপার্জনেই সংসারের অনেকটা চলত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ছেলের অসুস্থতার কারণে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। তার স্বামী ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করে যে আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে এমন আশায় সরকারি সহায়তা চান তিনি।

প্রতিবেশী কামাল বলেন, তাজউদ্দীন একসময় পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। এখন তাকে এ অবস্থায় দেখে এলাকার মানুষও কষ্ট পান। সরকারি সহায়তা বা সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা পাশে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাজউদ্দীনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতালের মাধ্যমে তাজউদ্দীনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।