চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করা কঠিন উল্লেখ করে পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, সাফারি পার্ক, মধুটিলা ইকোপার্কসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পর্যটন সুবিধা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন গড়ে তোলা হলে গারো পাহাড় এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
১০ অক্টোবর শেরপুরের গারো পাহাড়ের মধুটিলা ইকোপার্কে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গণমাধ্যমকর্মী ও হাতি সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটন উন্নয়নে হাতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হাতি যেখানে ভালো থাকবে, সেখানে বনও ভালো থাকবে। এশিয়া মহাদেশের ১৩টি দেশে হাতি রয়েছে। এসব হাতি সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। হাতি ও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও বলেন, হাতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের লোকবল কম থাকলেও হাতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদেরও পরিবর্তিত হতে হবে।
জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. সানাউল্যাহ পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেকসহ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও হাতি সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন, বন্যপ্রাণী ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানান। একই সঙ্গে গারো পাহাড়কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চেক এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যদের মধ্যে হাতি তাড়ানোর সরঞ্জাম বিতরণ করেন মন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রী গারো পাহাড়ে হাতির চলাচলের পথসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতেও অনুরূপ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।