নাটোরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজনেরা। এ সময় কর্তব্যরত এক চিকিৎসককেও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে শহরের আলাইপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রিকশাচালক বাবু হোসেনের স্ত্রী রুমি বেগমকে (২০) প্রসব বেদনার কারণে রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সকাল ৮টার দিকে তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। কিন্তু জন্মের কিছুক্ষণ পরেই নবজাতকটি মারা যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবের সময় এবং পরবর্তী মুহূর্তে নবজাতকটিকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। জন্মের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক বা নার্সরা দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেননি। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রসবের সময় ইতি রানী মণ্ডল নামে একজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নবজাতকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনেরা কেন্দ্রের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
নাটোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে বিভাগের একজন কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।