২০ বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, অবরুদ্ধ ৭ পরিবার

নাটোরের সিংড়ায় সাতটি পরিবারের প্রায় ২০ বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আয়াত আলী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে। এতে সাবেক সেনা সদস্য মাহবুবুর রহমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের পরিবারসহ সাতটি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিকল্প একটি পথ ব্যবহার করলেও সেটি রাত ৮টার দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরপর আর বের হওয়ার সুযোগ থাকে না পরিবারগুলোর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী জিহাদ আলী শেখের সহায়তায় পরিবারগুলো বিকল্প পথটি ব্যবহার করে আসছে। তবে জিহাদ আলী মালামালের ব্যবসা করায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে ওই পথের দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে এরপর পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও তা অমান্য করে আয়াত আলী ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ, প্রতিবেশীদের হুমকি-ধমকি এবং বসতভিটায় নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছেন। তার সন্তানদের কেউ কেউ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সাবেক সেনা সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করেন। ২০১৯ সালে মাপজোখের পর রাস্তা বাদ দিয়ে তার সীমানায় পাঁচ ফুট জায়গা পড়ে। পরে মানবিক বিবেচনায় আয়াত আলীকে সুবিধা দিতে তিনি প্রায় ৫৫ শতক জায়গা বিক্রি করে দেন। এভাবে চলার মধ্যে প্রায় দেড় বছর আগে আয়াত আলী তার জায়গাসহ রাস্তার অংশ দখল করে বসতভিটা নির্মাণ করেন। বারবার নিষেধ করলেও তিনি তা মানেননি। সম্প্রতি চলাচলের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করতে ইটের প্রাচীর ও গাঁথুনি দিয়ে দরজা নির্মাণ করা হয়েছে।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তিনি তার দোতলার নির্মাণকাজ করতে পারছেন না। শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার কারণে ভয়ে কেউ কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার কোনো সন্তান নেই। তিনি ঝামেলা পছন্দ করেন না। হজ করে এসেছেন এবং শান্তিতে থাকতে চান। কিন্তু প্রতিবেশী আয়াত আলী তাঁদের ওপর জুলুম করছেন। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত আয়াত আলী জানান, তার বাড়ির সীমানায় তিন ফুট জায়গা রয়েছে। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আ. মমিন সরকার ও আ. জলিল বলেন, বিষয়টি দ্রুত উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আইনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।