প্রবাসীকে আনতে গিয়ে বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে

প্রবাসী স্বজনকে বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে আনতে গিয়েছিলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের জুবায়েদুল ইসলাম (২৭)। কিন্তু স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁর। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল (২৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুবায়েদুল ইসলাম ক্ষেতলাল উপজেলার বাড়ইল গ্রামের আছের আলীর ছেলে। আর মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ইল গ্রামের প্রবাসী সুজন মিয়া বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁকে বাড়িতে আনতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু জুবায়েদুল ইসলামও ঢাকায় যান। পরে ফেরদৌস মন্ডলের চালানো মাইক্রোবাসে করে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

ফেরার পথে ভোরের দিকে নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের বিপরীত লেনে চলে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ভুট্টাবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জুবায়েদুল ও চালক ফেরদৌস মারা যান।

দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর দুই পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জুবায়েদুল ইসলামের আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্ত্রীও অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

অন্যদিকে ফেরদৌস মন্ডলের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। তাঁর সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর স্ত্রীও বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।