রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

তালা কেটে উপাচার্যকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো কক্ষ, গ্রেপ্তার আরও ২

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের ‍উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে তালা কেটে তাকে কক্ষ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ভিসিকে জোর করে সই নেওয়া ও পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া এবং সেকশন কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইনকে লাঞ্ছিত করে তাকেও পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- বিএনপিকর্মী আলী আকবর হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। উপাচার্য তার কক্ষে ঢুকেছেন।

উপাচার্যকে তার বাসভবন থেকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবিরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তালা খোলার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান। 

যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে সসম্মানে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে জোরপূর্বক সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। উপাচার্য জানান, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে সই করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।