তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামলো ৭ ডিগ্রিতে

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে কাঁপছে জনপদ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বর্তমানে পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। বাতাসের এই গতির কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্রতর হচ্ছে। গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি কমেছে, যার ফলে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে। তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক ও দিনমজুররা সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে এবং অনেক পরিবার খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে।

শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

তীব্র ঠান্ডার কারণে পঞ্চগড়ে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন। সিভিল সার্জন অফিস থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ার পাশাপাশি দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।