রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মুহুর্মুহু স্লোগান আর উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি রংপুরের নির্বাচনি জনসভার মাঠের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় তিনি জনসভা মঞ্চে পৌঁছান। মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। করতালি, স্লোগান ও দলীয় পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানান তারা। পুরো সমাবেশ এলাকা মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর রংপুরে এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এ জনসভাকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অনেকে মনে করছেন, তার এ সফর দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করবে।
বিকেলের আগেই নির্বাচনি জনসভাস্থল কালেক্টরেট মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মাঠের আশপাশেও কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা ও বিএনপির দলীয় পতাকা হাতে ধানের শীষের সমর্থনে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। নগরীর কাচারী বাজারের প্রধান সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় মিছিল মাঠের দিকে আসতে দেখা যায়। তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্য বিভিন্ন মোড়ে বড় পর্দার ব্যবস্থাও করা হয়।
এই নির্বাচনি জনসভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর জাফরপাড়ায় গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন তিনি।