১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগে স্বস্তি ও আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রোগীর চাপ, সীমিত শয্যা এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়ে সেবা দিয়ে আসা হাসপাতালটির সক্ষমতা বাড়লে ফুলবাড়ী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালটির রোগী ভর্তি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং জরুরি ও আবাসিক চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে।

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বহু বছর ধরেই বৃহত্তর এলাকার মানুষের অন্যতম ভরসার চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন ফুলবাড়ী উপজেলার পাশাপাশি চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ এবং বিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আহতদেরও প্রথমে এই হাসপাতালেই আনা হয়। এ কারণে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মুল ফটক

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যমান ৫০ শয্যার বিপরীতে অনেক সময় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। কখনো কখনো একটি শয্যা দুইজন রোগীকে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু, প্রসূতি ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফুলবাড়ী পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুল আলিম ও চন্দ্রনাথ গুপ্ত বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এই উপজেলার নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র্র। শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যার অভাবে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা

চিরিরবন্দর উপজেলার উচিৎপুর গ্রামের বাসিন্দা যুগল চন্দ্র সরকার বলেন, চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমাদের এলাকা থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় আমরা অধিকাংশ সময় ফুলবাড়ী হাসপাতালেই আসি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদেরও প্রথমে এখানেই আনা হয়। গুরুতর রোগীদের পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাই এই হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানো সময়ের দাবি ছিল। এখন আমরাও আরো বেশি সেবা পাবো।

নারী উদ্যোক্তা মর্তুজান নাহার মিতু এবং নারী উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান ইতি বলেন, প্রসূতি, শিশু ও জরুরি রোগীদের জন্য ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পর্যাপ্ত নার্স, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে অনেক সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের মতে, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধা, উন্নত ডায়াগনস্টিক সেবা, রক্ত সংরক্ষণ ইউনিট, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার ফলে হাসপাতালের সেবার পরিধি অনেকটাই বাড়বে। তবে শুধু শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করলেই হবে না। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে মানুষ কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়লে শুধু ফুলবাড়ী নয়, পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর মানুষেরও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।