৫ মাস আগে মারা যাওয়া বিএনপি নেতাকে কমিটিতে পদ, সমালোচনার ঝড়

যার মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচ মাস আগে, সেই নেতার নামই উঠে এসেছে নতুন ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে। শুধু তাই নয়, কমিটিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হিসাবে অভিযোগ থাকা কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দলীয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

সোমবার (২০ জুলাই) নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমানের স্বাক্ষরে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিটির তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।

প্রকাশিত কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে রামখানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আফাজ উদ্দিনকে। অথচ স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানা তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছিলেন।

মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত কমিটিতে আফাজ উদ্দিনের নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং কমিটি প্রণয়নে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার কয়েকজন ব্যক্তিকেও স্থান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কমিটিতে এমন ব্যক্তিদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। অথচ আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

তৃণমূলের নেতাদের দাবি, ব্যক্তিগত প্রভাব ও সুবিধার ভিত্তিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। রামখানা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান ফেসবুকে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, মৃত্যুর পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বেই নেতারা তার কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছিলেন। এরপরও কীভাবে মৃত একজন নেতার নাম নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলো—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ দলের কয়েকজন নেতা তাদের বাড়িতে এসে কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছিলেন।

তবে ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিন (বিএসসি)। তিনি বলেন, ভুলবশত আফাজ উদ্দিনের নাম কমিটিতে চলে এসেছে। তিনি দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। উপজেলা কমিটি হয়তো তার মৃত্যুর বিষয়টি জানত না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মৃত ব্যক্তির নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগেশ্বরীর বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটানো হবে।