আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১২১ ঘর তালাবদ্ধ

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘরহীন মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫১টি ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ রয়েছে ১২১টি ঘর। প্রয়োজনীয় যাতায়াত সুবিধা না থাকায় অনেক পরিবার সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায় না। এতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঘরগুলো।

জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’-এর আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ নম্বর আকচা ইউনিয়নের টাঙ্গন নদীর পাশে কান্দরপাড়ায় ১৫১টি ঘর নির্মাণ করা হয়। দুই শতক জমিসহ দুটি কক্ষ, রান্নাঘর, শৌচাগার এবং বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধাসংবলিত এসব ঘর নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে বসবাস করছে মাত্র ৩০টি পরিবার আর বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আশ্রয়ণটির পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় কোনো যাতায়াতব্যবস্থা না থাকা, শ্মশানের পাশে হওয়ায় এবং কর্মসংস্থানের অভাবে সুফলভোগীরা বাধ্য হয়ে তাদের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে গেছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বরাদ্দ পাওয়া কমল পাল বলেন, সরকারি ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর সেখানে গিয়ে দেখি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি শ্মশানের পাশে। আশপাশে কোনো জনবসতি নেই, অনেক ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। আমরা কুমোর মানুষ, মাটির হাঁড়িপাতিল তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করি। ওই এলাকায় আমাদের কাজের কোনো সুযোগ নেই, যোগাযোগব্যবস্থাও খুব খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে ঘরে তালা দিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছি। এখন নদীর পাড়ের খাসজমিতে ঘর তুলে কুমোরের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি।

কফিলা আক্তার নামে এক বৃদ্ধা কান্দরপাড়া আশ্রয়ণে চার বছর ধরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, প্রথম যখন ১৫১টি ঘর উদ্বোধন করা হয়, তখন ডিসি স্যার অনেক মানুষকে উঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরে আস্তে আস্তে লোক কমতে কমতে এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার আছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা নিমাই পাল বলেন, ‘আমার বসতবাড়ি নাই। আমরা চেয়ারম্যানের কাছে একটা ঘর চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে ঘর দেয়নি। যাদের ঘর দিছে তারা কেউ থাকে না। আর আমরা কষ্ট করে থাকছি মানুষের জমিতে। কোনো দিন তাড়িয়ে দেবে তার ঠিক নাই। পরিবার নিয়ে তখন রাস্তায় থাকতে হবে।

আকচা ইউপি চেয়ারম্যান সিমলা রায় বলেন, ১৫১টি ঘরের মধ্যে কেবল ৩০টি পরিবার বাস করছেন। যারা থাকেন না, ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘর উদ্ধার করে দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম জানান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভূমি ও গৃহহীন মানুষের থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে, ফেলে রেখে দখল বজায় রাখার জন্য নয়। কেউ না থাকলে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন তালিকার মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।