কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় সার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রৌমারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সার ডিলারের গুদামের সাটার ভাঙচুরের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ভূরুঙ্গামারীতে সার সরবরাহের দাবিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে গুদামের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকেরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স মিতা-হাসানের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সার সংগ্রহের জন্য ভোর ৬টা থেকেই গুদামের সামনে জড়ো হতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রায় ৬০০ কৃষকের একটি তালিকা তৈরি করে সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিলার বা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি না আসায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি গুদামের সাটার ভাঙার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
কৃষকদের দাবি, গুদাম থেকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, বন্দবেড় ইউনিয়নের ডিলার হলেও মেসার্স মিতা-হাসান রৌমারী সদর এলাকায় সার বিক্রি করে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সার না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার লুটের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিক্ষুব্ধ লোকজন গুদামের সাটার ভাঙচুরের চেষ্টা করলেও সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নেও সার বিতরণ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে সার না পাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় কৃষকেরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে একটি গুদামের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেখানে সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।