হবিগঞ্জ-সিলেট সড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

হবিগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট সড়কে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে আগের নিয়মে বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের কোনো বাস স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্তের পর বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

আবু মঈন চৌধুরীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আবু মঈন চৌধুরী বলেন, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটিই তাদের দাবি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তিনি।

তবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যেই হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আব্দুর রহিম রিপন আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।