সোহেলের যেমন শাস্তি চায় সাধারণ মানুষ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলার রায় শুনতে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।  আদালত প্রাঙ্গণে আসা বিক্ষুব্ধ মানুষ রামিসা হত্যার নৃশংসতা ও বর্বরতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান, যাতে ভবিষ্যতে এমন পৈশাচিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। 

আদালতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি জানান, প্রধান আসামি সোহেলকে আদালত প্রাঙ্গণের বটগাছে ঝুলিয়ে জনসম্মুখে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।

মিরপুর থেকে আসা মো. বাচ্চু মিয়া নামের আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসামির ফাঁসি দিয়ে আজকেই যেন রায় কার্যকর করা হয়, অথবা তাকে চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া হোক। 

শামশাদ বেগম নামে এক নারী আসামিদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির বীভৎস ও মাথাবিহীন মরদেহ দেখে পুরো দেশবাসী স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়েছে। মাত্র চার কার্যদিবসে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করার পর, ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। পরে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান রামিসার মা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।