শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ

হাসিনা-আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর বর্তমানে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত তারিখে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ ৪১ জনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আজ সকালে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন। সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদের (مধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার এবং মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০ থেকে ১৫ জন শীর্ষ নেতা। তাঁরা চিফ প্রসিকিউটরের সাথে সাক্ষাৎ করে মামলার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলাম। দিনভর নানা সংঘর্ষের পর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সমাবেশস্থলটি খালি করা হয়। ওই রাতের অভিযানে ব্যাপক হতাহতের অভিযোগ এনে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

SN
আরও পড়ুন