বিয়ে-তালাক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

নতুন এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্য সংযুক্ত হলে এক ক্লিকেই যেকোনো ব্যক্তির বিয়ে-সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব জানান আইনমন্ত্রী।

এদিন আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থা ডিজিটাল করা হলে বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের পাশাপাশি বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতিও ঠেকানো যাবে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াতেও এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভিসার আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিয়ে-সংক্রান্ত তথ্যও এক ক্লিকেই পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের কোনো দুর্বলতার কারণে ব্র্যাককে এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং বিবাহসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’