নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর ১০ আসামিকে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

খালাস পাওয়া ১০ আসামির মধ্যে রয়েছেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এক মামলায় ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টিকে আদালত ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার বিচারক মামুনুর রশিদ আসামিদের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অপরাধের মাত্রা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই দণ্ড দিয়েছেন বলে হাইকোর্ট মনে করেছেন। এ কারণে তাকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও দণ্ড নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নুসরাত হত্যা

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর কয়েক দিন পর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল হত্যা মামলা করেন। ২৮ মে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ২০ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের সাজা বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেন।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন