অসুস্থ মাকে দেখতে চেয়ে চিন্ময়ের প্যারোল আবেদন নাকচ

অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করেছে তার পরিবার। 

বুধবার (৯সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পদাধিকারবলে কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আবেদনটি করেন চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর।

তবে অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির কোনো বিধান নেই বলে পরিবারকে জানিয়েছে প্রশাসন। শুধু স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পরিবার শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তির (প্যারোল) আবেদন করেছে। তবে অসুস্থ কাউকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ নেই। স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। বিষয়টি তাঁদের পরিবারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’

রঞ্জন কুমার ধর বলেন, তাদের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের বয়স ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শনিবার তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মা বেশ কয়েকবার চিন্ময়কে একবার হলেও নিজের চোখে দেখতে চেয়েছেন। তার এই ইচ্ছা পূরণ করতেই আমরা চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ নেই।’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

চিন্ময়কে আদালতে হাজিরের দিন তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আদালত সংলগ্ন পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।