আয়কর রিটার্ন দাখিলের মৌসুম শুরু হলেই করদাতাদের মধ্যে একটি শব্দ ঘুরেফিরে আসে—‘জিরো রিটার্ন’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এমন ধারণাও ছড়ায়, আয়, সম্পদ, ব্যয় বা দায়ের প্রকৃত হিসাব যা-ই থাকুক, রিটার্নের ঘরগুলোতে শূন্য বসিয়ে দিলেই দায় শেষ। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন।
আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ নামে আলাদা কোনো রিটার্নের বিধান নেই। বরং করদাতাকে তাঁর প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য যথাযথভাবে ঘোষণা করতে হয়। কারও প্রকৃত আয় করযোগ্য সীমার নিচে হলে তাঁর করদায় শূন্য হতে পারে। কিন্তু করদায় শূন্য হওয়া আর রিটার্নে সব তথ্য শূন্য দেখানো—দুটি এক বিষয় নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যেও রিটার্নকে করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পার্থক্যটি না বুঝেই কেউ যদি প্রকৃত তথ্য গোপন করেন, তাহলে বিষয়টি কেবল একটি ভুল হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা কর আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
রিটার্ন আসলে কী?
রিটার্নকে অনেকেই নিয়মরক্ষার একটি ফরম হিসেবে দেখেন। কিন্তু কর আইনের দৃষ্টিতে এটি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন করদাতা তাঁর আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় সম্পর্কে রাষ্ট্রের কাছে যে তথ্য দেন, সেটিই রিটার্নের মূল ভিত্তি।
এনবিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্নে সব ধরনের আয়ের বিবরণ, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরে থাকা সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ফলে রিটার্নের কোনো ঘরে সংখ্যা বসানোর আগে শুধু ‘কত কর দিতে হবে’—এটি ভাবলেই হবে না। যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ভুল আর ইচ্ছাকৃত গোপন এক নয়
রিটার্ন পূরণ করতে গিয়ে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে তথ্য স্থানান্তরের সময় ভুল হতে পারে, কোনো বিনিয়োগের কাগজ হাতে না থাকায় তথ্য বাদ যেতে পারে, সম্পদের মূল্য নির্ধারণে অসাবধানতা হতে পারে কিংবা আগের বছরের তথ্য কপি করতে গিয়ে ভুল থাকতে পারে।
এসব অনিচ্ছাকৃত ভুলকে জেনে-বুঝে তথ্য গোপনের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।
আইনের ভাষাতেও এই পার্থক্যের গুরুত্ব রয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১২-এ করদায় এড়ানোর ইচ্ছাকৃত চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রতিটি ভুল তথ্যের অর্থই যে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং কোনো তথ্য কেন ভুল হয়েছে, তা কীভাবে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে করদায় এড়ানোর ইচ্ছা ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
ধারা ৩১২-এ কী বলা হয়েছে?
আইনের ওই ধারায় করদায় এড়ানোর ইচ্ছাকৃত চেষ্টার বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আয়ের কোনো বিশেষ বিবরণ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা; করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ, দায় বা ব্যয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া; সংশ্লিষ্ট হিসাব বা নথিতে অসত্য তথ্য বা বিবৃতি দেওয়া; মিথ্যা হিসাব বা বিবৃতি তৈরি করা বা করানো; হিসাব বা বিবৃতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া; প্রদেয় আয়কর পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া।
এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও আইনের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ধারা ৩১২-এর অধীনে নির্দিষ্ট অপরাধে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের কম নয় এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
এখানে মূল বিষয় হলো—‘ইচ্ছাকৃতভাবে’।
সম্পদ কম দেখালেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
অনেক করদাতা মনে করেন, রিটার্নে আসল গুরুত্ব শুধু আয় ও করের হিসাবের। সম্পদ ও দায়ের বিবরণকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাবার প্রবণতাও রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক আমানত, বিনিয়োগ কিংবা অন্যান্য সম্পদের তথ্যও রিটার্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধরা যাক, কোনো করদাতার প্রকৃত সম্পদ ২ কোটি টাকা। কিন্তু তিনি রিটার্নে সেটি ১ কোটি টাকা দেখালেন। অথবা ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য আমানত কিংবা বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করলেন।
যদি প্রমাণ হয় যে করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে জেনে-বুঝে এসব তথ্য গোপন বা পরিবর্তন করা হয়েছে, তাহলে তা আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
একইভাবে প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখিয়ে আয় কমিয়ে দেওয়া কিংবা দায়ের পরিমাণ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সম্পদের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কর শূন্য হতে পারে, তথ্য শূন্য নয়
এখানেই ‘জিরো রিটার্ন’ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি তৈরি হয়।
কোনো ব্যক্তির আয় যদি সংশ্লিষ্ট করবর্ষে আইন অনুযায়ী করযোগ্য সীমার মধ্যে না পড়ে, তাহলে তাঁর করদায় শূন্য হতে পারে। কর আইনসম্মত অব্যাহতি, অনুমোদিত বিনিয়োগ সুবিধা, গ্রহণযোগ্য ব্যয়, কর রেয়াতসহ বিভিন্ন বৈধ ব্যবস্থার মাধ্যমেও করদায় কমতে পারে।
কিন্তু এর কোনোটিই প্রকৃত তথ্য গোপন করার অনুমতি দেয় না।
অর্থাৎ— করদায় শূন্য হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত আয়-সম্পদ-ব্যয়ের তথ্য শূন্য বানিয়ে দেওয়া যায় না।
এনবিআরের বর্তমান ওয়েবসাইটেও ২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য আয়কর পরিপত্র, নির্দেশিকা এবং ই-রিটার্নের নির্দেশনা প্রকাশিত রয়েছে।
কর কমানো আর কর ফাঁকি এক নয়
করদাতার একটি বৈধ অধিকার হলো আইনে অনুমোদিত সুবিধা গ্রহণ করা।
কর অব্যাহতি, অনুমোদিত বিনিয়োগ, গ্রহণযোগ্য ব্যয়, কর রেয়াত কিংবা অন্য কোনো বৈধ সুবিধা নিয়ে করদায় কমানো হলে সেটিকে কর ফাঁকি বলা যায় না। বরং এসব সুবিধা কর আইনেরই অংশ।
সমস্যা শুরু হয় যখন বৈধ সুবিধার পরিবর্তে মিথ্যা তথ্য, কৃত্রিম হিসাব বা গোপন সম্পদের আশ্রয় নেওয়া হয়।
তাই একজন করদাতা চাইলে আইনসম্মতভাবে তাঁর করদায় কমাতে পারেন; কিন্তু করদায় কমানোর জন্য তথ্য বানিয়ে দেওয়া বা গোপন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
তথ্য চাইলে কী করবেন?
কর কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য বা নথি চেয়ে নোটিশ দিলে সেটিকে অবহেলা করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১১ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া, তথ্য দিতে অস্বীকার করা, পরিদর্শনে বাধা দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ না করা, আয়কর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা আইনে নির্ধারিত কোনো কাজ করতে ব্যর্থ হওয়া অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
এসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তাই কোনো নোটিশ পাওয়ার পর সেটি ফেলে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সময় লাগলে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যথাযথ কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করা নিরাপদ পথ।
জেনে মিথ্যা হিসাব দিলে আলাদা শাস্তি
শুধু কর ফাঁকির উদ্দেশ্যই নয়, জেনে-বুঝে মিথ্যা হিসাব বা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইনে পৃথক বিধান রয়েছে।
ধারা ৩১৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন হিসাব বা বিবৃতি দিলে, যা তিনি মিথ্যা বলে জানেন বা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করেন, অথবা সত্য বলে বিশ্বাস করেন না, তাহলে শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে অর্থদণ্ডসহ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং ন্যূনতম ছয় মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান থাকতে পারে।
একইভাবে ধারা ৩১৪ অনুযায়ী জেনেশুনে মিথ্যা সনদপত্রে স্বাক্ষর করা বা তা জারি করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে।
ফলে রিটার্ন তৈরির সময় অন্য কারও পরামর্শে কোনো তথ্য বসিয়ে দেওয়ার আগে করদাতার নিজেরও তা যাচাই করা উচিত।
রিটার্নে ভুল হলে কী করবেন?
ভুল হয়ে গেলে বিষয়টি গোপন করে রাখাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ।
ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, সম্পত্তি, উৎসে কর কর্তন, ব্যয় কিংবা আগের বছরের তথ্য নিয়ে ভুল ধরা পড়তে পারে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরও।
বর্তমান আয়কর আইনে নির্দিষ্ট শর্তে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর পরিপত্রে ধারা ১৮০-এর সংশোধনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রিটার্নে কোনো তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হলে কারণ উল্লেখ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
তবে এই সুযোগ সীমাহীন নয়। সংশোধিত রিটার্নের ক্ষেত্রে আইন নির্দিষ্ট শর্ত ও সময়সীমা দিয়েছে। তাই ভুল ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট বিধান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে যা মিলিয়ে দেখবেন
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নেওয়া হলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
প্রথমত, ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে ব্যাংক আমানত ও সুদের তথ্য মিলিয়ে দেখা।
দ্বিতীয়ত, বেতন, ব্যবসা, ভাড়া, বিনিয়োগ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ প্রতিটি আয়ের উৎস আলাদাভাবে যাচাই করা।
তৃতীয়ত, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য পরীক্ষা করা।
চতুর্থত, ঋণ ও অন্যান্য দায়ের হিসাব নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
পঞ্চমত, উৎসে কর কর্তনের সনদ ও অন্যান্য কর-সংক্রান্ত নথি যাচাই করা।
এনবিআরের রিটার্ন পূরণের নির্দেশনাতেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বেতন বিবরণী, ব্যাংক বিবরণী, সঞ্চয়পত্রের সনদ, ভাড়ার চুক্তি, সম্পত্তি ও অন্যান্য আয়ের প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কর পরামর্শক নিলেও দায় শেষ নয়
অনেক করদাতা নিজেরা রিটার্ন প্রস্তুত না করে কর আইনজীবী, হিসাববিদ বা কর পরামর্শকের সহায়তা নেন। এতে কাজ সহজ হয়, কিন্তু রিটার্নে দেওয়া তথ্য সম্পর্কে করদাতার নিজের দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
কোন তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া করদাতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে পেশাদার কর পরামর্শকেরও উচিত করদায় কমানোর নামে মিথ্যা আয়, কৃত্রিম ব্যয়, গোপন সম্পদ বা ভুয়া নথি ব্যবহারের পরামর্শ না দেওয়া।
কারণ ভুল পরামর্শের ফল শুধু একটি রিটার্নে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; তা ভবিষ্যতে করদাতার জন্য আইনি জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
‘জিরো রিটার্ন’ নয়, সঠিক রিটার্নই মূল কথা
করব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শুধু কর আদায় নয়; করদাতার আয় ও আর্থিক অবস্থার একটি সঠিক ও স্বচ্ছ চিত্র তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই আয় কম হলে কম আয় দেখাতে হবে, করযোগ্য না হলে আইন অনুযায়ী করদায় শূন্য হতে পারে, আর বৈধ সুবিধা থাকলে তা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু প্রকৃত আয় বা সম্পদ থাকার পরও সবকিছু শূন্য দেখিয়ে দেওয়ার কোনো বৈধ শর্টকাট নেই।
এনবিআর ২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য নতুন নির্দেশিকা ও ই-রিটার্ন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। ফলে রিটার্ন দাখিলের আগে করদাতাদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে এনবিআরের প্রকাশিত নির্দেশনা এবং প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করা।