বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৪৭ লাখ থেকে ১৭ কোটি ৮০ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা মাদক গ্রহণ করে থাকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ থেকে ৮৩ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই তরুণ ও কিশোর। প্রথমে কৌতূহল থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে। দেশে প্রায় ৭৭ লাখ পুরুষ এবং ৫ লাখের বেশি নারী ও শিশু মাদকাসক্ত।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, কৌতূহল, বন্ধুদের প্ররোচনা এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবে অনেক কিশোর-কিশোরী মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষার্থী ধূমপান, গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে সামনে আসছে।
এই আসক্তির প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে পড়ছে। অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সমস্যা, হতাশা, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের বাইরে অসাধু চক্র সহজেই কিশোরদের টার্গেট করছে। পর্যাপ্ত নজরদারি ও সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
শিক্ষক ও সমাজকর্মীদের মতে, স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত কাউন্সেলিং, সচেতনতামূলক ক্লাস এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি এখন একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।