ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাব হোসেন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানায় র্যাব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে র্যাব-১০-এর কর্মকর্তারা বক্তব্য দেবেন।
এর আগে শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় দুই ছেলের পোশাক কারখানায় ঢুকে এসআই আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকেও মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন। এর আগে ওই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
নিহত আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়া গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হামলার পর তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত আটটার দিকে কারখানা-সংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের ভাষ্য।
আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা কয়েকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকেও মারধর করা হলে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপরও তাঁকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
কারখানায় থাকা ছোট ছেলে আরিফুল বাবার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর বাবা-ছেলে দুজনই কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ওই ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন।
পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর আলতাবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে আহত করা হয়।
আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার ছুটি থাকায় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। শরিফুলের অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন।
শরিফুল আরও বলেন, তাদের কারখানার বাঁ পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলে মাঠের মতো করা হয়েছে। সেখানে ওই ব্যক্তিরা নেশা করেন বলে তার অভিযোগ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।