এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগীভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য পরীক্ষার সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। অটোপাশের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের টয়লেটেও নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে।
সভায় মন্ত্রী যেসব জেলায় জিলা স্কুল নেই সেখানে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে বলেন, এই জিলা স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে হবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করবে।