শিক্ষক নিয়োগে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কারণ কি?

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির অভিযোগ, এভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বাড়তে পারে। এতে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বর্তমান সিদ্ধান্ত আজ বুধবারের মধ্যে পরিবর্তন করা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিকে কোনোভাবেই অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির মাধ্যম হতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আমেলায় আয়োজিত নিয়মিত সভায় এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। সভায় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা এবং পরিবর্তিত বাস্তবতা অনুধাবনে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের একটি সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে স্কুলের কর্মচারী নিয়োগের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ওপর দেওয়া হয়েছিল। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান মন্ত্রী ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নিয়োগের ক্ষমতা আবার স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শেখ ফজলুল করীম মারুফ। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে নিয়োগের একক বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকলে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের মতো অভিযোগ সামনে আসার আশঙ্কাও রয়েছে। এর ফলে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে। যোগ্য শিক্ষকের পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ পেলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব যেন কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Maz
আরও পড়ুন