যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের ওপর নজরদারির জন্য একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়েছে, এমন অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরা ইংলিশ এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস–এর যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিচালিত হোরাস সিকিউরিটি কনসাল্টেন্সি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং গোপন নিরাপত্তা মূল্যায়ন তৈরি করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তত চার লাখ চল্লিশ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে। পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিলেন ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী, গবেষক এমনকি অতিথি বক্তারাও।
এই কার্যক্রমে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, কিংস কলেজ লন্ডন সহ মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, অন্যরা বলেছে এটি মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য এবং প্রকাশ্য তথ্য থেকেই এসব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের নজরদারি শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জিনা রোমেরো সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আইনি ও নৈতিক দিক থেকে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, যেসব শিক্ষার্থীর পোস্ট বা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তাদের অনেকেই আগে এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এতে করে ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা ও মতপ্রকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি