ইডেন কলেজে রাজনীতি বন্ধের দাবির নেপথ্যে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র অভিযোগ

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হলেও, অন্য একটি পক্ষ একে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ আড়ালে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ‘গুপ্ত রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ জানায়, অতীতে ছাত্ররাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে সিট বাণিজ্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির মতো ঘটনা ঘটেছে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা স্বাধীন ও ভীতিহীন পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কমিটি পাওয়ার আগেই পুরোনো সেই নিপীড়নের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছে। আমরা নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনীতি বন্ধ চাই।’

ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া আক্তার এই আন্দোলনকে ‘ছাত্রী সংস্থা’র (শিবির সংশ্লিষ্ট) সাজানো নাটক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। জুলাই আন্দোলনে আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই লড়াই করেছি। অথচ এখন গুটি কয়েক শিক্ষার্থী ‘মব’ সৃষ্টি করে ছাত্রদলের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। হিজাবকে এখন হেলমেটের মতো ব্যবহার করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ইবলিসও লজ্জা পাবে এই সাধারণ শিক্ষার্থী বেশধারী গুপ্ত শিবিরকে দেখলে। তিতুমীর কলেজেও আমরা দেখেছি, রাজনীতি বন্ধের আন্দোলনকারীরাই পরে শিবিরের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই মব সন্ত্রাস বন্ধ না করলে আমরা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ পাল্টা অভিযোগে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও ছাত্রদল নিজেদের সংশোধন করেনি। তারা আগের মতোই চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে জড়িয়ে ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভীত হয়েই রাজপথে নেমেছে। শিক্ষার্থীদের ‘দাস’ বানানোর প্রকল্প থেকে ছাত্রদলকে সরে আসা উচিত।’

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না, সে বিষয়ে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।